ভণিতা
প্রকৃতি ও পরিবেশ নিয়ে ভাবতে বসলে বৃক্ষরোপণ আর গ্লোবাল ওয়ার্মিং-এর কথাই মনে আসে। এটা প্রায় বাঁধা গতে পরিণত হয়ে গেছে বলা যায়। আর এই ওয়ার্মিং-এর
জন্য দায়ী করা হয় মানুষকেই। এতে ভুল নেই হয়ত, কিন্তু এর মধ্যে পুরো সত্যও নেই। যদি
পৃথিবীর গড় তাপ আজকের চেয়ে ৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস বেড়ে যায়,যার প্রবল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে,তাহলেও বহু লক্ষ বা বহু কোটি বছর পর এই গ্রহে
নতুন প্রাণের উদ্ভব সম্ভব, বায়োডাইভারসিটিও
ফিরতে পারে। কিন্তু তা হবে মানুষের ধরা ছোঁয়া এমন কি কল্পনারও বাইরে। পার্মিয়-ট্রায়াসিক (Permian-Triassic) যুগে,অর্থাৎ ২৫ কোটি বছরেরও বেশি আগে,প্রায় ৯৫
শতাংশ প্রাণ - উদ্ভিদ,পশু সবই - ধ্বংস হয়ে যায়। পৃথিবীর
বায়োডাইভারসিটি তার পুরোনো স্তরে ফিরতে পেরেছিল ৫ কোটি বছর পরে। বিশ্ব উষ্ণায়ণ
হলে সভ্যতা ভেঙে পড়বে। এবং তার ফলে কোটি কোটি মানুষের মৃত্যু হবে। শুধু তাই নয়,দ্রুত
পরিবেশ পরিবর্তনের ফলে ৫০ থেকে ৯০ শতাংশ প্রজাতির মৃত্যু হবে।
এই যে বিনাশের,সভ্যতা ভেঙে পড়ার আশঙ্কার কথা বলা হল, সে সভ্যতার জয়যাত্রা কিন্তু সম্ভব হয়েছে প্রতিবেশের সঙ্গে মানুষের নিরবচ্ছিন্ন
সম্পর্ক ও সংযোগের ফলেই। একথাও অবশ্য সত্য যে, এই যাত্রা পথে সৃষ্টি হয়েছে অনিবার্য সংঘাতেরও। মানুষ যেদিন থেকে আগুনের
ব্যবহার আয়ত্ত করেছে সেদিন থেকেই দহন প্রক্রিয়ায় সৃষ্টি হয়েছে দম বদ্ধ করা
ধোঁয়ারও। পরিবেশ দূষণের সেই শুরু। তারপর একে একে এসেছে কল-কারখানা, মায় পারমাণবিক
চুল্লী অবধি। দূষণের উৎস অঢেল। আজকের নগর-সভ্যতায় ‘অর্জন’ ও ‘বর্জন’
সমানুপাতিক নয়। বর্জ্য বস্তুর স্তূপে পরিণত হয়ে পড়ছে গোটা পৃথিবী। এক কথায়
ভারসাম্য বিনষ্ট হয়েছে, হচ্ছে প্রতিনিয়ত। পরিণাম যে দুর্বিষহ সে তো দেখতেই পাচ্ছি
সবাই। সংকটের ভয়াবহতা নিয়ে তর্কের অবকাশ
নেই তেমন। প্রশ্ন হচ্ছে, এই সঙ্কট থেকে মুক্তির উপায় কী? কী ভাবে পাওয়া যাবে পরিত্রাণ? পরিত্রাণ পেতে হলে
বুঝতে হবে সমস্যার ব্যাপ্তি ও চরিত্র, জানতে হবে মানুষ এবং পরিবেশের মধ্যে দেয়া-নেয়ার
প্রক্রিয়াটিও। সে চেষ্টাই আমরা করব এখানে, সীমিত সামর্থ্যে।
মানুষ ও পরিবেশ
মানুষ ও প্রকৃতির পাস্পরিক সম্পর্কের বিষয়ে
একথা অনায়াসে বলা যায় যে, প্রকৃতি যেখানে মানব দেহ নয়,সেখানে প্রকৃতি মানুষের অজৈব দেহ। মানুষ প্রকৃতির দ্বারাই
জীবনধারণ করে,এবং
প্রকৃতির সঙ্গে ধারাবাহিক কথোপকথন তাকে চালাতেই হয়। অর্থাৎ, সোজা কথায় মানুষের শারীরিক ও মানসিক জীবন প্রকৃতির
সঙ্গে অঙ্গাঙ্গী ভাবে যুক্ত। এ কথা বলার অর্থ কেবল,প্রকৃতি নিজের সঙ্গে যুক্ত,কারণ মানুষ প্রকৃতির একটি অঙ্গ। মানবদেহ
পরিবেশের উপর প্রভাব ফেলে। একই সঙ্গে পরিবেশও মানবদেহের উপর প্রভাব ফেলে। এই পারস্পরিক দেওয়া-নেওয়ার মাধ্যমে উভয়েরই
পরিবর্তন ঘটে। এই দৃষ্টিভঙ্গী অনুযায়ী,পরিবেশ নিস্ক্রিয় নয়। প্রাণী অথবা জীব মাত্রেই,যাদের
মধ্যে মানুষও পড়ে,মানুষের সামাজিক ক্রিয়াও পড়ে,তারা সকলে
সকলের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত। তারা ধারাবাহিকভাবে একে অপরের সঙ্গে আদান-প্রদান ঘটায় এবং
একে অপরকে রূপান্তরিত করে। আমরা যখন বলি, ‘অমুক প্রজাতি অমুক পরিবেশগত স্থান দখল
করেছে’ (has occupied an environmental niche) তখন এমন
একটা ধারণা তৈরি হয়,যেন ঐ স্থান বা niche-টি এমনিতেই তৈরি ছিল,আর ঐ প্রাণীটি পথ চলতে চলতে হঠাৎ সেটি দেখতে
পেয়ে আনন্দের সঙ্গে নিজেকে সেখানে প্রবিষ্ট করে ফেলছে। বস্তুত,প্রাণীদের সঙ্গে সম্পর্ককে প্রথম থেকে মাথায়
না রাখলে ‘পরিবেশ’ কথাটাই
অর্থহীন হয়ে পড়ে।
পরিবেশবাদের মূল লক্ষ্যই হচ্ছে মানুষের সুখ ও স্বাস্থ্যের জন্য এক সহযোগী
পরিবেশ গড়ে তোলা। লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য নিয়ে আপত্তি না থাকলেও গোল বাঁধছে
লক্ষ্যপূরণের পদ্ধতিগত প্রশ্নে। মানুষের স্বার্থ আর প্রকৃতির স্বার্থে দেখা দিচ্ছে
দ্বন্দ্ব ও সংঘাত। একপক্ষের কাছে মানুষের স্বার্থ প্রাধান্য পাচ্ছে, অপর পক্ষের
কাছে প্রধান হয়ে উঠছে প্রকৃতি। মানুষ ও প্রকৃতি যেন দুই যুযুধান পক্ষ। আবার ‘পরিবেশ
বাঁচাও’-বাদীদের কারো কারো হাবভাব এমন যে প্রকৃতিকে ‘যেভাবে যেমন আছে সেভাবেই’ (in virgin state) টিকিয়ে
রাখতে হবে, মানে ‘দাও ফিরে সেই অরণ্য’ আর কি ! তাতে চাই কি মানুষকে উৎসর্গ যদি
করতে হয় তবে তাও সই। অর্থাৎ, মানুষ এবং প্রকৃতি যেন দুটো আলাদা বা পৃথক সত্তা। আর
এই দুই সত্তার সম্পর্ক বুঝি সর্বাংশে বৈরিমূলক। গোলমাল বাঁধছে তাই, প্রকৃতি-প্রেমিকের দৃষ্টিতে
মানুষ হয়ে পড়েছে খলনায়ক। মানুষের জন্য নয়,
মানুষের কাছ থেকে প্রকৃতিকে রক্ষা করাই বুঝি এদের লক্ষ্য ও অভীষ্ট। অর্থাৎ, মানুষকে প্রকৃতি
থেকে আলাদা করে, বিচ্ছিন্ন করে দেখার একটা প্রবণতা রয়েছে এক্ষেত্রে। সমস্যার মূলও
সেখানেই নিহিত, এই ভুল বিভাজনের মধ্যে। মানুষ তো প্রকৃতিরই অংশ, এবং এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। গুরুত্বপূর্ণ এই অর্থে যে
মানুষ অন্যান্য প্রাণীকুলের মত ‘প্রকৃতির হাতের পুতুল’ মাত্র নয়। প্রকৃতির নিয়ম
গুলোকে বোঝার সদিচ্ছা ও সামর্থ্য তার আছে। আর আছে বলেই প্রতিকূল পরিবেশ পরিবর্তিত
হতে পারে অনুকূল পরিবেশে-মানুষেরই সামর্থ্যে, শুভবোধ, দূরদৃষ্টি ও বিচক্ষণতার
দৌলতে।
স্বল্প মেয়াদি লাভ, দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা
আমরা এমন এক যুগে প্রবেশ করেছি, এমন এক যুগে বসবাস করছি যে-যুগে একদিকে
প্রাচুর্য ও অপচয় অগাধ, অন্যদিকে শুধুই অভাব – খাদ্যের অভাব, পানীয় জলের অভাব, শুদ্ধ
ও মুক্ত বায়ুর অভাব, শক্তি(energy)-র অভাব। এইসব অভাব-মোচনের মাধ্যমে জীবনযাপনে সুখ
আমদানির নানাবিধ প্রচেষ্টা চলছে নিরন্তর। ফলাফল যে সব সময় সুখদায়ক হচ্ছে তা নয়, বরং
বহুক্ষেত্রে যে অসুখের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে তা বলা বাহুল্য মাত্র। (অহেতুক তথ্য ভারাক্রান্তির পথ পরিহারের সদিচ্ছা সত্ত্বেও)
সমস্যার ব্যাপ্তি ও গভীরতা বুঝতে খানিকটা সুবিধে হবে ভেবেই কয়েকটা বিষয় বাধ্যত
উল্লেখ করছি। যেমন ধরুন, প্রতিদিন বিশ্বে যে পরিমাণ জল ব্যবহৃত হয় তা প্রকৃতির
প্রদান ক্ষমতা থেকে ১০% বেশি। অর্থাৎ, ওই
অতিরিক্ত ১০% জল জোর জবরদস্তি করে প্রকৃতিকে শোষণের মাধ্যমে কেড়ে নেওয়া হচ্ছে, যদিও
তা অপরিহার্য নয়। প্রকৃতির বিরুদ্ধাচরণ এখান থেকেই শুরু হচ্ছে।
আবার ধরুন, বিভিন্ন রাসায়নিক সার, কীটনাশক ইত্যাদির ব্যবহারের মাধ্যমে পরিমাণগত ভাবে ফসলের
বৃদ্ধি ঘটানো হল, কিন্তু কয়েক বছর পর দেখা গেল যে জমির উর্বরতা হ্রাস পেয়েছে বহুলাংশে।
অর্থাৎ, সাময়িক লাভ সামগ্রিক লোকসানের কারণ হয়ে দাঁড়ালো। প্রযুক্তি-নির্ভর তথাকথিত
উন্নয়নের জন্য ‘শক্তি’(energy)-র চাহিদা বিরাট। প্রচুর মজুত সত্ত্বেও কয়লার ব্যবহার
কিঞ্চিৎ, কারণ এ হচ্ছে ‘নোংরা জ্বালানি’-পেট্রোল-ডিজেল-এর বিকল্প হিসেবে
গ্রহণযোগ্য নয় আদৌ। বিশ্বে ব্যবহৃত মোট জ্বালানির ৬০% ব্যয় হয় কেবল পরিবহনের জন্য।
খাদ্যশস্য থেকে জ্বালানি নির্মাণ প্রকল্পের ( ‘fuel for food’ policies’) ফলে উদ্ভুত সমস্যার একটি দৃষ্টান্ত দিই – যুক্তরাষ্ট্রে ভুট্টা (corn)-র মূল্যবৃদ্ধি
ঘটার অন্যতম কারণ হল কৃষিপণ্যজাত ইথানল তৈরির জন্য ভর্তুকি প্রদান। এদেশেও জেট্রোফা থেকে ডিজেল তৈরির
প্রয়াস একই সমস্যা সৃষ্টি করবে হয়ত অদূর ভবিষ্যতে। অথচ বিকল্প শক্তির উৎস গুলোকে ব্যবহারের
সদিচ্ছা পরিলক্ষিত হচ্ছে না। স্বল্প মেয়াদি লাভ এভাবেই দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা সৃষ্টি
করে। খাদ্য, জল ও শক্তি ক্ষেত্রে যা ঘটে তা অনিবার্য কারণেই পরিবেশকে প্রভাবিত করে,
পক্ষান্তরে পরিবেশে যে বদল ঘটে তা আবার পূর্বোক্ত তিনটি ক্ষেত্রকে প্রভাবিত ও
পরিবর্তিত করে।
আজকের পরিবেশ সংক্রান্ত সমস্যার মূলে রয়েছে এক শ্রেণির মানুষের অত্যধিক লোভ-লালসা
এবং আশু ফল লাভের অপরিণামদর্শী মানসিকতা। এক শতাব্দীর বেশি আগে ফ্রেডেরিক এঙ্গেলস শ্রেণিবিভক্ত
সমাজে স্বল্পমেয়াদি স্বার্থসিদ্ধি ও তার সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা উদ্রেকের নিবিড়
আন্তঃসম্পর্ক ব্যাখ্যা করেছিলেন। “আমরা
মানুষরা প্রকৃতির উপর যে বিজয় অর্জন করেছি তা নিয়ে নিজেদের বেশি পিঠ চাপড়ানি
দেওয়ার দরকার নেই। প্রতিটি বিজয়ের জন্য প্রকৃতি আমাদের উপর প্রতিশোধ নেয়। একথা ঠিক যে প্রতিটি
বিজয় প্রথমত,আমরা যে ফল চেয়েছিলাম,তা এনে দিয়েছে ;কিন্তু দ্বিতীয়ত এবং তৃতীয়ত,ভিন্ন,অপ্রত্যাশিত
ফল দেখা দিয়েছে,যা অনেক ক্ষেত্রে প্রথমটির নেতি ঘটিয়েছে।” এই তো কিছুদিন আগে উত্তরাখণ্ডে যা ঘটে গেল তাকে ‘প্রাকৃতিক
দুর্যোগ’ (natural calamity) মানতে নারাজ অনেকেই, পরিবেশবাদীরা তো বটেই। পরিবর্তে এই
দুর্ঘটনাকে ‘মানুষের তৈরি দুর্যোগ’ (man made
disaster)হিসাবেই বর্ণনা করেছেন বিশেষজ্ঞদের
বড় অংশ। কথাটা মিথ্যে নয় অবশ্যই ।
দৃষ্টান্ত ইচ্ছে করলেই বাড়ানো যেতে পারে, কিন্তু তার প্রয়োজন বোধহয় নেই। কেননা,
মূল কথাটা এর থেকেই পাঠকের কাছে নিশ্চয় পরিষ্কার হয়ে যাবে। সে যা-ই হোক, আপাতত সে প্রসঙ্গ থেকে সরে এসে
আমরা পরিবেশ সংক্রান্ত সমস্যাটিকে একটু নেড়ে চেড়ে দেখতে চেষ্টা করব। একথা নিশ্চয়
অনস্বীকার্য যে পরিবেশগত পরিবর্তন মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে এক ভয়ানক সঙ্কটের
সূচনা করেছে এবং এর থকে বেরুনোর পথ খুঁজতে ব্যস্ত সব পক্ষই। যদিও খোঁজার ধরনে
পার্থক্য বর্তমান। পরিবেশ সম্পর্কে সচেতনতার মূলে যে ব্যাপার বা উদ্দেশ্যটি রয়েছে
তা তো আসলে মানুষের বেঁচে থাকা, জীবনযাপনের পথটাকে সহজ সুগম করার উপায় বের করার
নিরন্তর প্রয়াস ছাড়া অন্য কিছু নয়। অথচ অবস্থাটা দাঁড়িয়েছে এমন যে মানুষ যেন ‘যে ডালে বসে আছে সে ডালটিকেই
কাটতে চাইছে’ বোকার মতন।
সমস্যার মূল কোথায় ?
কিন্তু এই অপরিণামদর্শিতার হেতু কী ? মানুষ তো বোকা নয়, বুদ্ধিমান জীব ! তাহলে
? এই আত্মঘাতী প্রবণতার মূল কোথায় ? মানুষ মাত্রেই কী এই আত্মঘাতের জন্য সমভাবে
দায়ী ? এইসব সাধারণ প্রশ্নের উত্তরের মধ্যেই লুকিয়ে আছে সমাধানের সূত্রটিও। উত্তর
খোঁজা যাক তবে ! মানুষের কাজের দীর্ঘমেয়াদী ফল কী হতে পারে মানুষ কেন তাকে
যথাযথভাবে দেখে নি ? এর কারণ হল,শ্রেণীবিভক্ত সমাজে,একদিকে রয়েছে শাসক-শোষক শ্রেণী,যাদের কাছে
(অন্তত সাধারণভাবে) গচ্ছিত আছে জ্ঞান,অথচ তারা সেই জ্ঞানকে ব্যবহার করতে চায় নিছক
নিজেদের শ্রেণিস্বার্থে;আর অন্যদিকে শ্রমজীবী মানুষ,যারা
বিকল্প চায়,কিন্তু বিকল্প সম্পর্কে তাদের ধারণা সব সময়
স্বচ্ছ নয়। একারণেই,গণচেতনা-গণবিদ্রোহকে নতুন উদীয়মান
উচ্চবর্গীয়রা অনেক ক্ষেত্রেই কুক্ষিগত করে ফেলতে সমর্থ হয়। ইউরোপে সামন্ততন্ত্র বিরোধী লড়াইয়ে শ্রমিক-ক্ষেতমজুর-ছোটো
চাষী সকলেই সামিল হলেও নেতৃত্ব দিতে এই জন্যই সক্ষম
হয়েছিল বুর্জোয়া শ্রেণী। আর বুর্জোয়া শ্রেণীর ক্ষমতা দখলের ফলেই দীর্ঘমেয়াদী
ফল বিশ্লেষণ করার চেষ্টা শিকেয় উঠে গেল। বুর্জোয়া অর্থনীতিবিদ জন মেনার্ড
কেইনসের এক প্রসিদ্ধ উক্তি হল,‘in the long run we will all be dead’ - অর্থাৎ,আমরা তো সবাই একদিন মরব, অতএব, বেশি
দীর্ঘমেয়াদী ফলের কথা ভেবে কী হবে ?
‘বীরভোগ্যা বসুন্ধরা’
এই বহুশ্রুত বচনটিতে ‘বীরের দল’ আসলে কারা ? সেটা জানা ও বোঝা দরকার। সামাজিক
বিবর্তনের ফলে একটা পর্যায়ে আদিম সাম্যের মানবিক
নীতি পরাস্ত হবার ফলে সম্পদের গোষ্ঠী (সামাজিক) মালিকানার বদলে উদ্ভব হল ব্যক্তি-মালিকানার। বিভাজিত হল মানুষ, মানুষের
সমাজ। বিভিন্ন শ্রেণির জন্ম হল। দেখা দিল শ্রেণি-দ্বন্দ্ব, শ্রেণিসংঘাত। শোষক-শোষিত
শাসক-শাসিতে বিভাজিত হল দুনিয়া। পৃথিবীকে
ভোগ করার সামাজিক ছাড়পত্র নিয়ে শাসক-শোষকের দলটিই হয়ে উঠল বীরের দল। দলের মধ্যেও
এল দলাদলি, কাড়াকাড়ি – ভোগ্য বস্তুর দখলদারি নিয়ে। এরই চূড়ান্ত রূপ আমরা দেখতে পেলাম, দেখতে পাচ্ছি বাজার দখলের জন্য সাম্রাজ্যবাদী
যুদ্ধের মধ্যে। ওই যে কথায় আছে না, ‘যুদ্ধ হয় রাজায় রাজায়, উলু খাগড়ার প্রাণ যায়’-এখানে
উলু খাগড়া হচ্ছে শোষিত-শাসিত আমজনতা, আর অতি অবশ্যই আমাদের ধাত্রী ধরিত্রী, প্রকৃতি।
এই বীরের দল প্রাকৃতিক সম্পদ লুঠ করার জন্য প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট করে না
শুধু, একেবারে তছনছ করে ছাড়ে। সৃজনশীল শ্রমকে শোষণ করার মাধ্যমে যেমন ছিবড়ে করে
ফেলে তাবৎ শ্রমজীবী মানুষকে। অর্থাৎ, এই শ্রেণির মানুষের লোভ-লালসার বলি হয় সাধারণ
মানুষ, যারা প্রকৃতির বিরুদ্ধাচরণ করে না জ্ঞানত, বরং বেঁচে থাকার স্বার্থে
জীবনধারণের জন্য প্রকৃতির ওপরই নির্ভর করে। করেছে আজন্ম, আজও করে চলেছে। এই সত্য উপলব্ধি
করা যায় এখনো, বিভিন্ন জনজাতি গোষ্ঠীগুলোর জীবনযাত্রার প্রণালী লক্ষ্য করলে। নদীকে
যারা চেনে, পাহাড়কে যারা জানে, জঙ্গল যাদের আবাসভূমি তারা জানে প্রকৃতির সঙ্গে
সহবাসের রীতিনীতি। সাম্প্রতীক সময়ে এর সবচেয়ে বড় দৃষ্টান্ত তো আমাদের সবারই জানা, যে, আন্দামানের আদিবাসীদের
একজনও প্রাণ হারান নি প্রলয়ংকর সুনামির ফলে। সমস্যা হল, এই না-যুদ্ধবাজ মানুষেরা
পেরে ওঠে না ‘আধুনিক লুঠেরা বীরপুঙ্গবদের’ সঙ্গে লড়াইয়ে, প্রতিরোধ করতে পারে না প্রতিহত
করতে পারেনা তাদের বিবিধ ও বিধ্বংসী আক্রমণ।
প্রতিবাদ প্রতিরোধের কড়চা
কিন্তু একেবারেই কি পারে না ! একে বারেই পারে না তা নয়। প্রতিবাদ-প্রতিরোধের
প্রচেষ্টা চলছে, চলছেই। চলতেও থাকবে নিশ্চয়, কেননা এ আসলে জীবন সংগ্রামেরই অঙ্গ।
বাঁচার লড়াই থেকে আলাদা নয়। ‘চিপকো’ আন্দোলনের (১৯৭৩) কথাই স্মরণ করুন, সুন্দরলাল
বহুগুণা-র নেতৃত্বে এই গণ-আন্দোলন যখন চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছিল সে সময় এদেশে পরিবেশবাদীদের
অস্তিত্বও ছিল না। কিংবা ‘জঙ্গল বাঁচাও আন্দোলন’(১৯৮০), বিহারের সিংভূম জেলায় শুরু
হলেও শেষ পর্যন্ত তা ঝাড়খণ্ড ও উড়িষ্যায় ছড়িয়ে পড়েছিল। বৃহৎ নদী-বাঁধ প্রকল্পের
বিরুদ্ধে মেধা পাটেকরের নেতৃত্বাধীন ‘নর্মদা বাঁচাও আন্দোলন’(১৯৮২) তো গোটা
বিশ্বের বিবেককে নাড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়াও কোকাকোলা-র বিরুদ্ধে যে স্বতস্ফূর্ত আন্দোলন গড়ে
তুলেছে এদেশের একেবারে সাধারণ মানুষ, অথবা এই সেদিন তামিলনাডুর মানুষ কুডানাকুলাম
পারমাণবিক প্রকল্পের বিরুদ্ধে যে গণ-প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে, তার মধ্যে নেই এই জীবনদায়িনী
ধাত্রী ধরিত্রীকে লুঠেরাদের হাত থেকে রক্ষা করার অদম্য সংকল্প ?
দৃষ্টান্তের অভাব নেই। আসলে, আমরা, যারা বছরের কোনও এক বিশেষ দিনে নির্ধারিত
ভাষণ শেষে বৃক্ষরোপণের কর্মসূচী পালন করে আলোকচিত্রিত হই সহাস্যে, পরিবেশ চেতনার
দারুণ নিদর্শন হাজির করি সদম্ভে, সেই আমরা বহুযোজন দূরের ওই লড়াইগুলো সম্পর্কে
জানতেও চেষ্টা করি না। যদি বা জানিও, সে লড়াইয়ের মর্মে পৌঁছতে পারি না কিছুতেই, কোনও
ভাবে। সংযুক্ত হওয়া তো দূর অস্ত। আর এখানেই মস্ত সুযোগ পেয়ে যায় ক্ষমতান্ধ লুঠেরার দল। প্রতিবাদ-প্রতিরোধের টুঁটি টিঁপে ধরার
অঢেল অবকাশ পেয়ে যায় তারা। আমাদেরই উদাসীনতায়, অসচেতনতায়, কিংবা সচেতন
নিষ্ক্রিয়তার দরুণ। সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে যে লড়াই আমাদের লড়ার কথা জীবন দিয়ে সে
লড়াই চালিয়ে যায় সামাজিক বিচারে শিক্ষায়-দীক্ষায়
অনেক পেছনের সারির মানুষেরা। যারা এনভায়রনমেন্ট, বায়োডাইভারসিটি, ইকো-ফ্রেণ্ডলি
ইত্যাদি শব্দের মানে জানে না, ধারও ধারে না। সে প্রয়োজনও পড়ে না তাদের। কারণ,
শিক্ষিত সমাজ যে তত্ত্বের বড়াই করে, তার
ধারাবাহিক অনুশীলন করে চলে এরা জীবন জুড়ে, প্রজন্মের পর প্রজন্ম জুড়ে। এই হচ্ছে বাস্তব চিত্র, দেশে দেশে, সারা বিশ্বে।
বিশ্বায়নের বিষবাস্প
ধনতন্ত্র
যেহেতু ক্রমাগত বাড়তে চায়, তাই তার ক্রমাগত বেশি শক্তির প্রয়োজন, দরকার অজস্র কাঁচামালের।
পুঁজিবাদীরা যদিও দাবি করে,তারা অধিক দক্ষ ভাবে কাঁচামাল
ব্যবহার করছে,তবু
বর্জ্য পদার্থ বেড়েই চলেছে। শিল্পোন্নত দেশগুলির অর্থনীতি সম্পর্কে ২০০০ সালে পাঁচটি
বড় গবেষণা কেন্দ্রের গবেষণা থেকে দেখা যাচ্ছে, সম্পদ
ব্যবহার বাড়ছে বই কমছে না, এবং
অর্থনীতিতে বার্ষিক যত সম্পদ প্রবেশ করছে তার অর্ধেক থেকে তিন চতুর্থাংশ এক বছরের
মধ্যে বর্জ্য পদার্থ হিসেবে পরিবেশে ফিরে আসছে। এই
কারণেই মার্কিণ যুক্তরাষ্ট্র উন্নয়নশীল তাঁবেদার রাষ্ট্রকে ‘বর্জ্যের বদলে ডলার’ দিয়ে থাকে। ধনতান্ত্রিক
উৎপাদন
পদ্ধতি মানুষ ও পৃথিবীর মধ্যে বিপাকীয় (metabolic) আদান-প্রদানে
ব্যাঘাত ঘটায়;অর্থাৎ,মানুষ
খাদ্যবস্তুরূপে জমির যে সব উপাদান গ্রহণ করে,সেগুলোকে
জমিতে ফিরে যাওয়ার পথে বাধা দেয়। তার ফলে ধনতন্ত্র জমির ধারাবাহিক উর্বরতা
রক্ষার শর্তাবলীকে লঙ্ঘন করে। শ্রম প্রক্রিয়াসমূহের সামাজিক সংযোগ ও সংগঠন
পর্যবসিত হয় শ্রমিকের ব্যক্তিগত প্রাণশক্তি, মুক্তি ও স্বাধীনতাকে চুরমার করে
দেওয়ার এক সংগঠিত পদ্ধতিতে। উপরন্তু ধনতান্ত্রিক কৃষিতে সব প্রগতিই হল
একাধারে শ্রমিক এবং জমি, উভয়কেই লুন্ঠন করে এমন এক প্রযুক্তিগত প্রগতি। একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য জমির উর্বরতাবৃদ্ধিতে যে প্রগতি,তা হল
দীর্ঘমেয়াদী ভাবে ঐ উর্বরতা বিনষ্ট করার উৎসের দিকে যাত্রার প্রগতি। জমি ও শ্রম, উভয়কেই
শোষণ করা এই প্রগতির অনিবার্য পূর্বশর্ত।
পুঁজিবাদী
বিশ্বায়ন যে ভোগবাদের জন্ম দিয়েছে তার কুফল ব্যক্তি থেকে ব্যষ্টি-জীবনে, জলে-স্থলে-অন্তরীক্ষে
সর্বত্র দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। মানুষকে মানবিকতা-বিযুক্ত করার পাশাপাশি এই বিশ্বায়ন
প্রকৃতিকেও করে তুলছে অ-প্রকৃতিস্থ। প্রকৃতির
প্রতিশোধ অনিবার্য হয়ে দেখা দিচ্ছে। যেমন অনিবার্য হয়ে উঠছে বিশ্বযুদ্ধের
সম্ভাবনা। প্রলয়ের, মহাপ্রলয়ের আয়োজন সুসম্পন্ন প্রায়। ‘ধরণী, দ্বিধা হও, তোমার
বুকে মুখ লুকিয়ে আত্মরক্ষা করি’ বলার উপায় পর্যন্ত নেই আমাদের। প্রতিদিনের হীন-বাণিজ্য
আমাদের এনে দাঁড় করিয়েছে এক মহা সন্ধিক্ষণের মুখোমুখি। সিদ্ধান্ত নিতে হবে
মানুষকেই। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত; বেছে নিতে হবে চূড়ান্ত পথ, অন্তর্বর্তী পথ বলে কিছু
নেই আর। বলা বাহুল্য, সে পথ এক নিরবচ্ছিন্ন
যুদ্ধের পথ। সে যুদ্ধ সাম্রাজ্যবাদী শোষণের বিরুদ্ধে সামাজিক সাম্যের লক্ষ্যে, সে
যুদ্ধ মানুষকে প্রকৃতি থেকে মানবিক প্রবৃত্তি থেকে বিযুক্ত করার বিরুদ্ধে। অর্থাৎ,
শেষ বিচারে পরিবেশ বাঁচানোর সংগ্রামটাও আসলে আলাদা লড়াই নয়, মানুষের অন্য সব রকমের
মানবিক সংগ্রামের অংশ মাত্র। সামাজিক ন্যায় ও সাম্যের লড়াইয়ের অন্তর্গত এক সার্বিক
লড়াই, এক বিশ্বজনীন যুদ্ধ। মানুষকে প্রকৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন করার মাধ্যমে পুঁজিবাদী
ব্যবস্থা যেমন নিজস্ব শোষণ-প্রক্রিয়া বজায় রাখে ও লুঠতরাজ চালিয়ে যায়, পরিবেশ
রক্ষার আন্দোলনকে সাম্য ও মুক্তির অন্যতর প্রয়াস সমূহ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেখার
মতাদর্শ ও তত্ত্ব প্রচার করেও তেমনি স্থিতাবস্থা বজায় রাখার পাকা বন্দোবস্ত করতে
উদগ্রীব ধূর্ত শাসকের দল। এই বিষয়টা স্পষ্ট না হলে ‘প্রকৃতি বাঁচাও’ ‘পরিবেশ
বাঁচাও’ জাতীয় স্লোগানগুলো শেষ পর্যন্ত শত্রু শিবিরের মুখগুলোকে মুখোসে ঢেকে দেবার
ভূমিকা পালনের অতিরিক্ত কোনও দায় পালনে সক্ষম হবে না। এই কারণে,আমাদের
গ্রহকে যদি তার বর্তমান অবস্থায়,বর্তমান প্রাণীজগতকে নিয়ে বাঁচতে
হয়,তাহলে
পুঁজিবাদের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব অনিবার্য, অবশ্যম্ভাবী।
সমাধানের
সম্ভাব্য সূত্র :বিকল্প
বিশ্বায়ন
ধনতন্ত্র ও তার পৃষ্ঠপোষক বুর্জোয়া সমাজ প্রতিটি ক্ষেত্রে এক আপাত
স্বয়ংসম্পূর্ণতার দাবি বা বড়াই করলেও আসলে প্রত্যেকটি খণ্ডের বিচ্ছিন্নতাই একমাত্র
সত্য ও বাস্তব। কডওয়েল এই বিচ্ছিন্নতাকেই বুর্জোয়া সমাজের সবরকম চিন্তার মধ্যে
এক সাধারণ সমস্যা বা রোগ হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন। শ্রম থেকে শ্রমিককে,
যন্ত্র থেকে যন্ত্রীকে, প্রকৃতি থেকে মানুষকে, চিন্তা থেকে কর্মকে বিচ্ছিন্ন করেই ব্যবস্থাটি
টিকে থাকে। এ তার
চারিত্রিক গঠনের অঙ্গ। ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও সমাজ তাই একপেশে
যুক্তিসর্বস্বতার আশ্রয় নিয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণতার অবাস্তব দাবির মাধ্যমে ক্ষয়িষ্ণু সমাজ ও সংস্কৃতিকে বাঁচাবার প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা চালায়। ধনতান্ত্রিক
বিশ্বায়ন এই প্রয়াসের অনিবার্য অনুষঙ্গ বই আর কিছু নয়।
এমন নয় যে সমাধানের উপায় আমাদের হাতে নেই, পরিবেশ কেন্দ্রিক সমস্যার যথার্থ
সমাধানের জ্ঞান ও প্রযুক্তি মানুষের হাতেই আছে, কিন্তু যাদের হাতে রয়েছে তারা তার
উপযোগে উৎসাহী নয় মোটেই। সমস্যা এখানেই। বিশ্বায়ন আমরাও চাই, তবে তেমন বিশ্বায়ন
চাই না যেখানে কেউ একজন অথবা একদল কিংবা কোন একটি দেশ মোড়লি করবে শুধু। পুঁজিবাদী
বিশ্বায়ন নয়, আমরা চাই মানবিক বিশ্বায়ন। মানুষের বিশ্বকে বিশ্বের মানুষের জন্য পেতে
চাই, যে বিশ্বে খাদ্য-খাদকের সম্পর্কের বদলে ‘বাঁচো, এবং বাঁচতে দাও’ (Live and let live) নীতি-ই
হবে মূল সামাজিক চালিকাশক্তি, প্রতিযোগিতার পরিবর্তে
সহযোগিতা, ভোগ-বিলাসের পরিবর্তে সংযম ও মিতব্যয়িতা হবে জীবনযাপনের স্বাভাবিক রীতি,
যুদ্ধের বিপরীতে শান্তি প্রতিষ্ঠাই যেখানে মুখ্য হবে। মানুষে মানুষে তো বটেই, সেখানে মানুষ
এবং প্রকৃতির মধ্যেও থাকবে না কোনো যুযুধান ব্যবধান, বিরোধ। এ পৃথিবী সত্যি অর্থে বাসযোগ্য হয়ে উঠবে তখনই।
কাজটা দুরূহ ও দুঃসাধ্য নিশ্চয়, কিন্তু সাধ্যাতীত নয়। আদিম মানুষ থেকে আজকের আধুনিক
মানুষে রূপান্তর সম্ভব হয়েছে মানুষেরই অদম্য উৎসাহে, অপরিসীম নিষ্ঠায়। যে বিবর্তনের ফলে
এই অভাবনীয় পথ-পরিক্রমা সম্ভব হয়েছে তা তো থেমে যায়নি। সে প্রক্রিয়া তো চলছে এখনো,
আমাদের স্থূল দৃষ্টির অন্তরালে। চলমান প্রক্রিয়াটিকে বোধের গভীরে অনুধাবন করে অন্তরে আত্মস্থ করে নিতে যদি পারি,
তাহলেই চিনে নিতে পারব পথের নিশানা। তবে তার জন্য প্রয়োজন আছে আরেক আত্মযুদ্ধের, ‘আপন
হতে বাহির হয়ে’ বাইরে দাঁড়াবার শক্তি এবং সাহসের। মানুষ হয়ে মানুষের সারিতে
দাঁড়াবার দরকার এখন। ভেতর থেকে বদলাতে হবে প্রথমে, আত্মকেন্দ্রিকতার গহ্বর থেকে
বেরুতে হবে সর্বাগ্রে, তবেই ‘বাহিরে’ বদল ঘটানো সম্ভব হবে, সহজ হবে। অন্তর্গত
পরিবেশ না পাল্টালে বাইরের পরিবেশ পাল্টাবে না কিছুতেই, এই উপলব্ধি সবচেয়ে জরুরি
এসময়। অর্থাৎ, এক সামাজিক রূপান্তর ছাড়া আমাদের গ্রহের রূপান্তর বস্তুত অসম্ভব।