মৃত্যু! এই শব্দটি উচ্চারিত হওয়া মাত্র শিরদাঁড়া বেয়ে হিমস্রোত বয়ে যায়। চতুর্দিক অন্ধকারময় মনে হয়। এর কারণ বোধ হয় এই যে, মৃত্যুকে মেনে নেওয়া খুব সহজ নয়। সে যতই ‘মরণরে তুঁহু মম শ্যাম সমান’ গীত গাওয়া হোক না কেন! ইয়োজিরো তাকিতা নির্মিত ‘ডিপার্চারস’ ফিল্মের নায়িকাও তাই মেনে নিতে পারেনি তার প্রেমিকের পেশাকে। মৃতের প্রসাধন করাকে কেউ পেশা হিসেবে বেছে নিতে পারে সে তার সুদূর কল্পনাতেও আসে না। সিনেমা কিন্তু শুরু হয় সম্পূর্ণ ভিন্ন এক আখ্যান দিয়ে। ওই প্রেমিক দম্পতির মত আমাদের কল্পনায়ও ঘুণাক্ষরে ধরা দেয় না কাহিনির গতি কোন দিকে অগ্রসর হতে চলেছে। গল্পের নায়ক এক সাদামাটা সেলো বাদক, সাধারণ এক অর্কেষ্ট্রার দলে কাজ করে। শ্রোতাও নগণ্য, এদিকে-ওদিক ছড়ানো-ছিটানো। অর্কেষ্ট্রার দল বন্ধ হয়ে যায় অর্থের অভাবে। ছেলেটি প্রেমিকাকে জানায় সব কথা, নিজের ছেড়ে আসা গ্রামে ফিরে যেতে চায় । এর মধ্যে গোদের ওপর বিষ ফোঁড়ার মতন সে আবার অতিরিক্ত দাম দিয়ে নতুন একটা সেলো কিনেছে। প্রেমিক যুগলের জীবন ও জীবিকার এই ক্রাইসিস নিয়েই শুরু হয় গল্প। পরিচালকের মুনশিয়ানায় অনন্য ভ্রমণের সঙ্গী হয়ে এক অপূর্ব আবিষ্কারের সাক্ষী হই আমরা। আর এই আবিষ্কার ঘটে মৃত্যুর অনুষঙ্গে।
জাপানি সিনেমায় মৃত্যু এক প্রিয় বিষয় হিসেবে বারবার ধরা দিয়েছে। সে কুরোসাওয়ার ‘ইকিরু’, কিংবা ওজোশিকি’র ‘দ্য ফিউনারেল’ অথবা ওজু’র ‘টোকিও স্টোরি’ বা কোরে এদাস-এর ‘আফটার লাইফ’ যা-ই হোক না কেন। কিন্তু বিশেষত্ব এই যে এই পরিচালকেরা মৃত্যুকে নিরীক্ষণ করেন চলিষ্ণু জীবনের স্বার্থে ও শর্তেই। তাই ছবিগুলোতে শোকের ছায়া আছে যদিও হতাশা ও বিলাপের অস্তিত্ব নেই। পরজন্মের প্রতি অকারণ মনোযোগও কেন্দ্রীভূত হয় না এদের নির্মাণে, বরং দৃষ্টি নিবদ্ধ থাকে জীবিতের অবস্থানে, সদ্য মৃতের মর্যাদার প্রতি। ডিপার্চারস দেখতে দেখতে সেকথাই আরো একবার অনুভব করা গেল। অনুভব করা গেল যে, প্রথা-ভাঙা স্টাইল বা সাংঘাতিক শৈল্পিক বয়ান নয়, গল্প বলার উপযুক্ত দক্ষতাই সিনেমার ক্ষমতা ও আবেদন ধরে রাখার ক্ষেত্রে প্রকৃত সহায়ক।
দাইগো (Masahiro Motoki) ও মিকা (Ryoko Hirosue) – এই প্রেমিক যুগলের সংসারে যখন দুর্যোগ নেমে আসে, তখন অনন্যোপায় হয়ে দাইগো স্থির করে যে মায়ের মৃত্যুর পর ছেড়ে আসা গ্রামেই ফিরে যাবে তারা। দামী সেলোটি বিক্রি করে পথ-খরচ যোগাড় হয়। এই পরাজয়ের গ্লানি নিয়েই শুরু হয় নতুন আশায় ঘর বাঁধা। অর্থাভাব সত্ত্বেও ছোট্ট সংসারে তৃপ্ত ছিল উভয়ে, পরস্পরের প্রতি সংলগ্ন ছিল। ‘কর্ম খালি’ বিজ্ঞাপন দেখে দাইগো আবেদন পাঠায়, ডাকও পেয়ে যায়। বিজ্ঞাপন দেখে প্রথমে সে ভেবেছিল কোনও ট্র্যাভেল এজেন্সির কাজ হবে বোধহয়। সাদামাটা সাক্ষাৎকার শেষে সে যখন জানতে পারে যে কাজটা শেষকৃত্যের আগে মৃতের পরিচর্যার এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে ইতস্তত করে ঠিক তখনই তাকে প্রক্রিয়াটি সচক্ষে প্রত্যক্ষ্য করার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। যেখানে একটা শিক্ষামূলক ভিডিও নির্মাণের পর্ব চলছিল। খানিক বাদেই দাইগোকে হাতে-কলমে কাজ আরম্ভ করতে হয়। খুব দ্রুত ঘটে যায় ঘটনাগুলো।
শোক সন্তপ্ত পরিজনদের সম্মুখে একটি মাদুরের ওপর শায়িত মৃতদেহের পরিচর্যা শুরু হয়। স্নান করানো থেকে পোশাক পরানোর কাজগুলো সমাধা করা হয় অতি সন্তর্পণে, মৃতের মর্যাদার কথা মাথায় রেখে প্রয়োজনীয় আড়াল তৈরি করা হয়। মুখাবয়বের প্রসাধন করা হয় সযত্নে এবং খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে, প্রায় নিখুঁত ভাবে। পরিবারের মানুষজন নীরব-নিশ্চুপ, জানু পেতে অবস্থান করে। কখনো-সখনো অবশ্য শোকের প্রকাশ ঘটে বুকফাঁটা কান্নার আওয়াজে, রূঢ় সত্যের উদ্ঘাটন হয় কখনো বা। অতঃপর শবদেহ প্রবেশ করানো হয় কাঠের কফিনে। প্রস্তুতির সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি আনুষ্ঠানিক ধর্মীয় আচারের রূপ পায়। শুরু হয় দাইগোর জীবনের ‘নয়া পাঠ’। নিজের কাজের ব্যাপারটা মিকার কাছে খোলসা করে না দাইগো, সে মেনে নিতে পারবে না জানে বলেই। জাপানী সমাজে মৃতের পরিচর্যার কাজটি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ যদিও, সম্মানজনক নয় মোটেই। মৃতদেহের স্পর্শ মাত্র অবাঞ্ছিত বিবেচিত হয়, স্নান-শুদ্ধি জরুরি হয়ে পড়ে।
গ্রামের ছোট্ট বাড়িটিতে প্রেমিক যুগলের শান্তিতেই দিন গুজরান হয়। বাবার ফেলে যাওয়া এল পি রেকর্ড বাজিয়ে গান শোনে, ছেলেবেলায় ছেড়ে চলে যাওয়া যে বাবার কথা মোটেও ভাবতে চায় না দাইগো, বরং বিরক্তি প্রকাশ করে সে। সব ঠিকঠাক ছিল, কিন্তু গোলমাল বাঁধল একদিন। ঘটনাচক্রে মিকা জেনে গেল দাইগোর কাজের বিষয়ে, ঘৃণায় দূরে সরে গেল। মৃতের পরিচর্যায় রত মানুষের ছোঁয়া পর্যন্ত সে বাঁচিয়ে চলতে চায়। একা হয়ে যায় দাইগো। কাহিনি মোড় নেয় অন্যদিকে। মৃত্যুকেন্দ্রিক সংস্কার ও মৃতদেহের সঙ্গে যুক্ত পেশার বাস্তব মূল্য –এ দুয়ের বৈপরীত্যে তৈরি হয় এক অদ্ভুত টানাপোড়েন।
ঠাস বুনোটের এক অসাধারণ স্ক্রীপ্ট মুহূর্তের জন্যও দর্শকের মনোসংযোগ বিঘ্নিত হতে দেয় না। অসাধারণ আবহ সঙ্গীত এমন এক মুড তৈরি করে দেয় যে মূল কাহিনির মধ্যে প্রবিষ্ট অনু-কাহিনি গুলো আলাদা করে নজরে পড়ে না দর্শকের দৃষ্টিতে। মৃত পত্নীর অনুপস্থিতিতে বিষণ্ণ সাসাকি (Tsutomu Yamazaki), অফিসের সহায়ক চরিত্রটির করুণ কাহিনি, সাধারণ স্নানাগার চালানো মহিলা ও তার গ্রাহক চরিত্রটি কিংবা গোরস্থানের সেই মানুষটি –সব যেন জাদুবলে মূল গল্পের প্লটের সঙ্গে জুড়ে যায় অনায়াসে। আমরা জেনে নিই তাদের জীবনের নানা কথা, কাহিনি। সব শেষে আসে দাইগোর সেই সহকারী, শান্ত সমাহিত কন্ঠে যে জানিয়ে দেয় যে, এই কাজের জন্যই জন্মেছে সে, তার ছেড়ে যাওয়ার উপায় নেই কোনো। দাইগোও কাজ না ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কেন, সেটা দর্শককে বলে দেবার প্রয়োজন পড়ে না। দাইগোর মত দর্শকেরও বুঝতে অসুবিধে হয় না যে এই জীবিকা তার কাছে অর্থবহ হয়ে উঠছে ক্রমে।
ডিপার্চারস ফিল্মটি নিয়ে বলা যায় অনেক কথাই। বিভিন্ন সমালোচক বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে এর ব্যাখ্যা করেছেন, গুরুত্বের কথা বলেছেন। বৌদ্ধ ধর্মের ‘মোক্ষ’, এমন কি ‘সনাতন’ (? হিন্দু) ধর্মের ‘কর্ম’ ইত্যাদি প্রসঙ্গ জুড়েও আলোকপাত করা হয়েছে। সেরকম পোস্টমোর্টেমে আমাদের উৎসাহ নেই। সাধারণ দর্শক হিসেবে ফিল্মটি ভালো লাগার অভিজ্ঞতাই ভাগ করার চেষ্টা করব মাত্র। (প্রসঙ্গত, মুখ্য অভিনেতা ২৭ বছরের মোতোকি-র মাথায় চিন্তাটা কিন্তু আসে ভারত ভ্রমণে এসে গঙ্গার তীরে এক শবযাত্রা ও শবদাহের অনুষ্ঠান প্রত্যক্ষ্য করার পর। দশ বছর লেগে যায় ডিপার্চারস তৈরি হতে।) দেশ-কাল নির্বিশেষে শবযাত্রা সংক্রান্ত লোকাচার সমূহ কিন্তু সব সমাজেই সব সময় গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। কেননা এর সঙ্গে ‘মৃত’ প্রিয়জনের ‘অন্যলোকে’ যাত্রার লোকবিশ্বাস জড়িয়ে আছে। এর আড়ালে নিশ্চিত যে প্রবণতাটি বর্তমান তা হল জীবনচক্রে মৃত্যু ‘অনিবার্য’ জেনেও মৃত্যুকে ‘অস্বীকার’ করার প্রচণ্ড মানবিক তাগিদ। আর এটাই সম্ভবত জীবনের সব থেকে বড় চালিকা শক্তি । ডিপার্চারস ফিল্মের পরিচালক যেন সে কথাই জোরের সঙ্গে বলেছেন। ফিল্মে মৃতের পরিচর্যার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধর্মের বিবিধ আচারের উপস্থিতি থাকলেও ধর্ম কখনো প্রধান হয়ে ওঠেনি। বরং কতটা যত্নে এবং নিষ্ঠায় তা পালিত হচ্ছে সেটাই মুখ্য হয়েছে। অর্থাৎ, মৃত মানুষটি কোন বিশেষ ধর্মের তা অবান্তর হয়ে পড়েছে, গুরুত্ব পেয়েছে মানুষ। মৃত মানুষ, এবং তার মর্যাদা।
ডিপার্চারস ফিল্মটি নিয়ে বলা যায় অনেক কথাই। বিভিন্ন সমালোচক বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে এর ব্যাখ্যা করেছেন, গুরুত্বের কথা বলেছেন। বৌদ্ধ ধর্মের ‘মোক্ষ’, এমন কি ‘সনাতন’ (? হিন্দু) ধর্মের ‘কর্ম’ ইত্যাদি প্রসঙ্গ জুড়েও আলোকপাত করা হয়েছে। সেরকম পোস্টমোর্টেমে আমাদের উৎসাহ নেই। সাধারণ দর্শক হিসেবে ফিল্মটি ভালো লাগার অভিজ্ঞতাই ভাগ করার চেষ্টা করব মাত্র। (প্রসঙ্গত, মুখ্য অভিনেতা ২৭ বছরের মোতোকি-র মাথায় চিন্তাটা কিন্তু আসে ভারত ভ্রমণে এসে গঙ্গার তীরে এক শবযাত্রা ও শবদাহের অনুষ্ঠান প্রত্যক্ষ্য করার পর। দশ বছর লেগে যায় ডিপার্চারস তৈরি হতে।) দেশ-কাল নির্বিশেষে শবযাত্রা সংক্রান্ত লোকাচার সমূহ কিন্তু সব সমাজেই সব সময় গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। কেননা এর সঙ্গে ‘মৃত’ প্রিয়জনের ‘অন্যলোকে’ যাত্রার লোকবিশ্বাস জড়িয়ে আছে। এর আড়ালে নিশ্চিত যে প্রবণতাটি বর্তমান তা হল জীবনচক্রে মৃত্যু ‘অনিবার্য’ জেনেও মৃত্যুকে ‘অস্বীকার’ করার প্রচণ্ড মানবিক তাগিদ। আর এটাই সম্ভবত জীবনের সব থেকে বড় চালিকা শক্তি । ডিপার্চারস ফিল্মের পরিচালক যেন সে কথাই জোরের সঙ্গে বলেছেন। ফিল্মে মৃতের পরিচর্যার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধর্মের বিবিধ আচারের উপস্থিতি থাকলেও ধর্ম কখনো প্রধান হয়ে ওঠেনি। বরং কতটা যত্নে এবং নিষ্ঠায় তা পালিত হচ্ছে সেটাই মুখ্য হয়েছে। অর্থাৎ, মৃত মানুষটি কোন বিশেষ ধর্মের তা অবান্তর হয়ে পড়েছে, গুরুত্ব পেয়েছে মানুষ। মৃত মানুষ, এবং তার মর্যাদা।
ছুটে চলা প্রযুক্তির এই যুগে মানুষে-মানুষে সম্পর্ক যান্ত্রিক হয়ে পড়েছে। এমন কি পরিবারের ক্ষুদ্র গণ্ডিতেও সম্পর্ক যেন মৃতের শরীরের মতই ঠাণ্ডা, শীতল। ফিল্মে তাই দেখতে পাই যে, স্বামী জানেনা মৃত স্ত্রীর পছন্দের লিপস্টিক কোনটি, মা-বাবা সন্তানের মনের খোঁজ না নিয়ে যৌনতা নিয়ে তর্কে মাতেন, মা যে সাধারণ স্নানাগার চালান তার থেকে সুবিধা নেওয়া ছাড়া ছেলের অন্য চিন্তা নেই। এমনকি প্রোটাগোনিস্ট চরিত্রটি, দাইগো, সেও নিতান্ত অল্প বয়সেই পিতার সাহচর্য থেকে বঞ্চিত। ক্ষয়িষ্ণু সমাজের এক মানবিক ব্যবচ্ছেদ দেখি দৃশ্য থেকে দৃশ্যান্তরে। নিজের পরিবারের সঙ্গেই মানুষের বেড়ে যাওয়া দূরত্ব, শীতল থেকে ক্রমে আরো শীতল হয়ে পড়া সম্পর্ক যে একাকীত্ব, যে নিঃসঙ্গতার জন্ম দেয় সেও তো মৃত্যুরই সামিল। মৃতের প্রসাধনের দৃশ্যগুলোতে তাই দেখতে পাই অনুতপ্ত পরিজনদের যন্ত্রণা-ক্লিষ্ট মুখ, বেঁচে থাকতে যত্ন না নেওয়ার প্রায়শ্চিত্ত করতেই তারা যেন ‘শেষ যাত্রা’র সাজসজ্জা নিখুঁত দেখতে চায়। আর তাদের চাওয়াকে পূর্ণ মর্যাদা দিয়ে প্রাণ-মন ঢেলে নিজের কাজ করে চলে দাইগো। কাজটা আর অস্বাভাবিক মনে হয় না, বরং দায়িত্ব বা কর্তব্য হয়ে ওঠে। সে কারণেই অন্য কোনো (স্বাভাবিক) পেশা খুঁজে নেবার কথার উত্তরে মিকাকে সে দৃঢ় স্বরে বলে, বলতে পারে, ‘মৃত্যু তো স্বাভাবিক’। এক নিদারুণ মানবিক সত্যের উন্মোচন ঘটান পরিচালক এই দৃশ্যগুলির পরিকল্পনায়, ডিটেল সমেত।
পরিবারের আশ্রয় আসলে ভালোবাসার আশ্রয়। যে ভালোবাসা ছাড়া জীবন অর্থহীন। একটু বিস্তৃত করে যদি বলা হয়, তো বলা যায় যে, মানুষ মানুষের স্পর্শ চায়, মানবিক পরিবেশ চায়। ডিপার্চারস আসলে ছেড়ে যাওয়ার নয়, ফিরে আসার গল্প। ঘরে ফেরার, মূলের কাছে ফিরে আসার। দাইগোও তাই ফেলে আসা গ্রামের বাড়িতে ফিরে যায়, প্রিয়জনকে হারিয়ে পরিবার-বিমুখ মানুষ আবার পরিবার-মুখী হয়। গর্ভে সন্তান নিয়ে মিকা যেমন ফিরে আসে। টোকিও অর্কেস্ট্রায় যে সেলো নিয়ে বিটোফেনের নাইন্থ সিম্ফোনিতে অংশ নিয়েছে, অর্থের অভাবে বেচে দিতে বাধ্য হলেও সেই প্রিয় সেলোই আবার হাতে ওঠে আসে দাইগোর। গর্ভে সন্তান এসেছে টের পেয়ে মিকাও শেষ চেষ্টা করে প্রিয়তমের কাছে ফিরে যাবার, সন্তান গর্বিত হতে পারে তেমন একটা জীবিকা খুঁজে নেবার অনুরোধ করে। উভয়ের আলাপচারিতার মধ্যেই আসে ডাক, সহপাঠির মায়ের মৃত্যুর। কাছে থেকে মিকাও দেখে সেই অসামান্য প্রসাধন-প্রক্রিয়া। ভুল ভাঙে, বোধোদয় ঘটে। ভালোবাসার আশ্রয়ে ফিরে আসে আবার, আরো বেশি হৃদয়ের বিশ্বাসে।
বাবার মৃত্যুর খবর জেনে অনিচ্ছা সত্ত্বেও অন্য গ্রামে যায় দাইগো। প্রথমে বাবার মৃতদেহ সনাক্ত করতে পারেনা সে, অথচ শেষকৃত্যের প্রস্তুতিতে রত কর্মীদের দায়সারা কাজে ক্ষুব্ধ হয়, নিজেই পরিচর্যায় হাত দেয়। যে বাবার প্রতি রাগ-অভিমান, ক্ষোভের সীমা নেই, তার অবমাননা অসহ্য ঠেকে। হাতের মুঠোয় ধরা ছেলেবেলায় দেওয়া পাথর-লিপি আবিষ্কারের মধ্যে দিয়ে বাবাকেই যেন পুনরাবিষ্কার করে, ফিরে পায়। সম্পর্কের এই জটিল অথচ মানবিক উৎসারের দৃশ্যায়ন সহজ নয়, সচরাচর দেখাও যায় না।
মিকাকে বাবার দেওয়া এক টুকরো পাথর, প্রস্তর-লিপি (stone-letter) দেখিয়ে দাইগো যখন বলে যে চিঠির আদান-প্রদানেরও আগে মানুষ পাথরের মাধ্যমেই হৃদয়ের কথা ও অনুভব, ভালোবাসার উত্তাপ পৌঁছে দিত প্রিয়জনের কাছে, এবং সেই পাথরের টুকরোটি যেভাবে (গর্ভের সন্তানকে উদ্দেশ্য করে) মিকার শরীরে ছোঁয়ায় তখন সে দৃশ্যকল্পনা যেন পরিণতির আশ্চর্য শিখর স্পর্শ করে, ভিন্ন মাত্রা পায়। সিনেমাটিও, দর্শকের সাথে যেন প্রায় নিঃশব্দেই এক অমোঘ সংযোগ প্রবাহ তৈরি করে। ছেড়ে যাওয়ার, -মৃত্যু তো প্রকৃত অর্থে ছেড়ে যাওয়াই,- সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার দৃশ্য ঘুরে ফিরে বারবার এসেছে ফিল্মে , কিন্তু কোথাও পুনরুক্তিদোষে বিরক্তি উদ্রেককারী হয়নি। বরঞ্চ, ভিন্ন অনুষঙ্গে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। মূল গল্পের ভেতর অনু-গল্প গুলো যেমন।
বলা নিষ্প্রয়োজন, এজাতীয় যোগাযোগ ঘটিয়ে দেয় যে সৎ সিনেমা তার নির্মিতি নিয়ে পৃথক প্রশস্তির অবকাশ থাকে না। শট কিংবা সিকোয়েন্স, কাট অথবা মন্তাজ, আলো ও সঙ্গীত, স্ক্রীপ্ট থেকে শুরু করে অভিনয় ও সিনেমাটোগ্রাফি যে জায়গায় যে মাত্রায় পৌঁছলে এমন সিদ্ধিলাভ হয় তা সচরাচর চোখে পড়ে না। ডিপার্চারস সেই গোত্রের সৃষ্টি যা দর্শককে হাত ধরে সুন্দরের দরবারে নিয়ে যায়, জীবনের আনন্দযজ্ঞে নিয়ত নিমন্ত্রণ পাঠায়। শেষ হয়েও শেষ হয় না এ ছবি। প্রেক্ষাগৃহ ছেড়ে বেরিয়ে আসতে আসতে মনে হয় ডিপার্চার নয়, এ ছবির মর্মে আছে অ্যারাইভালের ইশারা। প্রস্থানের, পরাজয়ের কাহিনি এ নয় –এর মর্মে রয়েছে প্রত্যাবর্তনের মানবিক আকুতি, স্বপ্ন ও অঙ্গীকারের প্রতীকী ব্যাঞ্জনা। মৃতের শিয়রে বসে আকাঙ্ক্ষার জীবন খুঁজে নেওয়া। খুঁজে পাওয়া। মৃত্যুতে জীবনের পরিসমাপ্তি হলেও জীবনপ্রবাহের মৃত্যু নেই। তাই এ সিনেমায় সব মৃতের মুখ জীবনের দিকে ফেরানো ।
ডিপার্চারস সিনেমাটির সাফল্যের মূলে যে বস্তুটি তা হচ্ছে স্বর এবং সুরের সঙ্গতি। গল্প কথনের মৃদু স্বরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাঁধা হয়েছে সুর। সেলো বাদন সেখানে প্রধান ভূমিকা নিয়েছে। পরিচালক তাকিতা বাদ্যযন্ত্রটি ও মৃতের শেষকৃত্যের মধ্যে সমান্তরাল চিহ্ন এঁকেছেন, তাঁর বর্ণনায় –
... ironically, there is something similar between the process of encoffinment and the act of playing the cello. When you play the cello, the instrument has a human, curvaceous form. The cellist embraces that form when playing the instrument, very loving, affectionate. That's very similar, physically, to the actions of the encoffiner, cradling the body, being tender and gentle with it.
অসামান্য এক মন্তাজে (montage),যে দৃশ্যে দাইগো, প্রকৃতির কোলে খোলা আকাশের নিচে ছেলেবেলার সেলোটি হাতে নিয়ে বাজায় তার সঙ্গে মৃতদেহ কফিনবন্দী করার দৃশ্য জুড়ে দিয়ে যে অভিঘাত সৃষ্টি করেন তা এক কথায় অতুলনীয়। ওপরের মন্তব্যটিই যেন চলচ্চিত্রের ভাষায় শরীরী হয়ে ওঠে।
মোতোকি, ইয়ামাজাকি, রাইয়োকো সদৃশ অভিনেতাদের কাজের পৃথক উল্লেখ বাহুল্য মাত্র। দৃশ্য পরিকল্পনার অভিনবত্ব যে সংবেদনশীলতার জন্ম দেয় তা দর্শককে মোহাবিষ্ট করে রাখে। দৃষ্টান্ত স্বরূপ, গ্রামের নির্জনতা ও সাধারণ স্নানাগারের অন্তরঙ্গ ভিড়ের দৃশ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন অভিঘাত তৈরি করে। ফিল্ম জুড়ে সাদা রঙের প্রাচুর্যও লক্ষ্য করার বিষয়। সাদার অনুষঙ্গে বরফ, ক্রিসেন্থিমাম ইত্যাদির সুপরিকল্পিত ব্যবহার অন্য মাত্রা যোগ করে। সাদা রঙ যেন সত্যের প্রতীক। তার সঙ্গে ধ্রুপদী সঙ্গীত ও মৃতের পরিচর্যার আচার-অনুষ্ঠানে অঙ্গসঞ্চালনের ধরণ মিলে মিশে একাকার হয়ে শেষকৃত্যের বিশুদ্ধতা ও পবিত্রতাকেই যেন প্রতিষ্ঠিত করে।
--------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
Casting
Ryōko Hirosue, who had formerly worked with Takita, was cast as Mika. Motoki, by then in his early 40s and having built a reputation as a realist, was cast as Daigo.[h] Veteran actor Tsutomu Yamazaki was selected for the role of Sasaki; Takita had worked with Yamazaki on We Are Not Alone (1993). Although the character of Mika was initially planned as being the same age as Daigo, the role went to pop singer Ryōko Hirosue, who had previously acted in Takita's Himitsu (Secret) in 1999.[i] Takita explained that a younger actress would better represent the lead couple's growth out of naivety. In a 2009 interview, Takita stated that he had cast "everyone who was on my wish list".
Motoki studied the art of encoffinment first-hand from a mortician, and assisted in an encoffining ceremony; he later stated that the experience imbued him with "a sense of mission ... to try to use as much human warmth as I could to restore [the deceased] to a lifelike presence for presentation to her family".[35] Motoki then drilled himself by practising on his talent manager until he felt he had mastered the procedure, one whose intricate, delicate movements he compared to those of the Japanese tea ceremony.[36] Takita attended funeral ceremonies to understand the feelings of bereaved families, while Yamazaki never participated in the encoffinment training.[37] Motoki also learned how to play a cello for the earlier parts of the film.
To provide realistic bodies while preventing the corpses from moving, after a lengthy casting process the crew chose extras who could lie as still as possible. For the bath house owner Tsuyako Yamashita, this was not possible owing to the need to see her alive first, and a search for a body double was unfruitful. Ultimately, the crew used digital effects to transplant a still image of the actor during the character's funeral scene, allowing for a realistic effect.