বিকল্প সিনেমা কথাটা হালে বেশ চালু হয়েছে। যথেচ্ছ ব্যবহারে হাল্কা হবার উপক্রমও যে হচ্ছে না সেও নয়। বিকল্প বলতে আসলে কী বুঝব? চলচ্চিত্র চর্চার আঙ্গিনায়, ফিল্ম সোসাইটি আন্দোলনের দৌলতেই মুখ্যত আমরা আর্ট মুভি, নিউ ওয়েভ কিংবা প্যারালাল সিনেমা ইত্যাদি শব্দবন্ধের সঙ্গে সকলেই কম বেশি পরিচিত। এও মিথ্যে নয় যে, ওরকম সংজ্ঞায় সংজ্ঞায়িত ক্যাটাগরিতে একটু অথবা কিছুটা অন্যরকম, ভিন্নস্বাদের ফিল্ম বা সিনেমা আমরা উপভোগের সুযোগ পেয়েছি। বিকল্প সিনেমা কি একুশ শতকের সেরকম কোন ‘অন্যরকম’-এর রকমফের? না কি তার মানে একেবারে আলাদা কিছু ? মোটা দাগের একটা জবাব অবশ্য এভাবে দেওয়া যায় যে, মূলধারার বাইরের সিনেমা। মুলধারা মানে সোজা অর্থে বাণিজ্যিক সিনেমা। দোহাই পাঠক, বাণিজ্যিক মানে ‘মন্দ উপাখ্যান’ এমনটা আবার ভেবে বসবেন না যেন! সিনেমা নিয়ে সিরিয়াস ভাবনা-চিন্তা করতেন এমন নির্মাতা-পরিচালকদের এক সময় নানা সঙ্গত কারণেই এমনটা মনে হয়েছে যে নিজের মত করে ছবি করতে হলে একটা পাল্টা ব্যবস্থা চাই। যেহেতু সিনেমা তৈরির ক্ষেত্রে পুঁজি থেকে শুরু করে যন্ত্রপাতি স্টুডিও ইত্যাদির ওপর নির্ভরতা, নির্মাণের পর আবার প্রদর্শনের জন্য ডিস্ট্রিবিউটরের মুখাপেক্ষী হওয়া ইত্যাদি হ্যাপার ওপর আরেক বাড়তি খাঁড়া হিসেবে ছিল সেন্সর বোর্ড নামক মাস্তান।
তো কেউ কেউ ভাবলেন এভাবে ভালো সিনেমা বানানো মুশকিল, অর্থাৎ স্বাধীন ভাবে তৈরি করা অসম্ভব। কথাটা মিথ্যেও নয়। আর এরকম ভাবনার ফলশ্রুতিতে ইণ্ডিপেণ্ডেন্ড ফিল্ম, এক্সপেরিমেন্টাল ফিল্ম, অন্য সিনেমা ইত্যাদি বহু রকমের ফিল্মের কথা আমরা শুনলাম বটে, কিন্তু বাস্তবে কী বা কতটুকু পেলাম তা বলা মুশকিল। মেনস্ট্রিম সিনেমার বাইরে যারাই ছবি তৈরির প্রয়াস করেছেন তাদের অধিকাংশের কাছেই অর্থের যোগান বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছিল। অনেকেই ধার করে বা চাঁদা তুলে অর্থ সংগ্রহের মাধ্যমে কিংবা ভবিষ্যতের নিজস্ব সঞ্চয় নিঃশেষ করে দুঃসাহসিক কিছু পদক্ষেপ নিলেন। কিছু অসাধারণ নির্মাণ আমরা পেলাম। কিন্তু একটা সাড়া জাগানো আন্দোলন বলতে যা বোঝায় তেমন কিছু তৈরি হল না, অথবা করা গেল না। অনেকে আবার ফিল্ম তৈরি করেও দর্শকের দরবারে পৌঁছতে পারলেন না বিভিন্ন ডামাডোলে। আর্থিক দেনার দায়ে হতাশ হলেন কেউ কেউ। কোন রকম সমঝোতার মানসিকতা যাদের ছিল না তারা আস্তে আস্তে হারিয়ে গেলেন। কেউ কেউ পরীক্ষা-নিরীক্ষার এমন সব কসরৎ করলেন যার জন্য নাচ-গান-নৌটঙ্কিতে অভ্যস্ত আমদর্শক তৈরি ছিল না। সামান্য কয়েকজন দড়ির ওপর ব্যাল্যান্সের খেলা দেখিয়ে টিকে গেলেন এবং ‘মিডল সিনেমা’ গোছের একটা ক্যাটাগরি তৈরি হল। সত্তর-আশির দশকে সরকারি সহায়তায়, এন এফ ডি সি ইত্যাদির কল্যানে কিছু ভিন্ন স্বাদের ভালো সিনেমা আমরা পেলাম যদিও অবস্থাটা খুব বেশিদিন স্থায়ী হল না। টিভি-ভিডিও যুগ এসে চিরাচরিত সিনেমাকে কিছু পরিমাণে কোণঠাসা করে ফেলল।
প্রযুক্তির ক্ষেত্রে যে বিপ্লব বিংশ শতাব্দীর শেষ ভাগ ও একবিংশ শতাব্দীর শুরুতে ঘটে গেছে তার ফলে সেলুলয়েড সিনেমার ক্ষেত্রে নয়া সংকট ঘনিয়ে এলো। ক্যানবন্দী রীল ধীরে ধীরে বিদেয় নিল, তার জায়গা নিল সিডি-ডিভিডি। এক সময় দল বেঁধে যারা সিনেমা হলে লাইন দিত, ব্ল্যাকে টিকিট কিনেও সিনেমা দেখার শখ মেটাতে দ্বিধা করত না তারা আস্তে আস্তে ঘরমুখী হতে আরম্ভ করল। ক্রমে সি ডি-ডি ভি ডি ইত্যাদির সহজলভ্যতার দৌলতে সিনেমা হলের কাউন্টারের সামনের দীর্ঘ লাইন হ্রস্ব হতে হতে একসময় প্রায় অদৃশ্য হয়ে গেল। একে একে বন্ধ হতে থাকল হল গুলো, প্রথমে বড় বড় শহরে, তারপর ছোট শহর ও শহরতলিতেও সেই মড়ক দেখা দিল।
সিনেমার ক্ষেত্রে ‘শিল্প’ কথাটা, বাংলা ভাষায়, ‘আর্ট’ এবং ‘ইন্ডাস্ট্রি’ দুই অর্থেই ব্যবহৃত হতে পারে। যুক্তিসঙ্গত কারণেই পারে। ব্যবহৃত হয়েও থাকে। সিনেমার প্রযোজনা-পরিচালনা-পরিবেশনা-প্রদর্শন এই গোটা প্রক্রিয়াটাই শিল্পক্ষেত্রের (industry sector) সঙ্গে মেলে। তাছাড়া স্টুডিও-সেন্সরবোর্ড-সিনেমা হল নির্ভর যে সুনির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রণ পরিকাঠামো সেও সমগোত্রের। সিনেমা তৈরির জন্য নিয়োজিত পুঁজির মূল লক্ষ্য অবশ্যই মুনাফা, এবং উপরে উল্লেখ করা উৎপাদন প্রক্রিয়ায় যা উৎপাদিত হয়ে থাকে তা যে বাজারের নিরিখে ‘ফিনিশড্ প্রোডাক্ট’ মাত্র সে বিষয়ে সন্দেহমাত্র থাকার কথা নয়। এই পণ্য বাজারে আসে, চলে, বাজার অর্থনীতির নিয়ম-নীতি মেনেই। অর্থাৎ সিনেমা সেই অর্থে আর দশটা পণ্যের মতোই একটা পণ্য মাত্র। অধিকাংশ বিনোদন-মূলক সিনেমা তাই। কিন্তু তাই যদি হয় তো সৃষ্টিশীল সিনেমা বা আর্ট সিনেমা নির্মাণের সম্ভাবনা কতদূর? আদৌ কি সম্ভব? এটা অবশ্যই একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। মনে রাখা দরকার এখানে আর্ট সিনেমা বলতে মূলত সৃষ্টিশীল সিনেমার কথাই বোঝানো হচ্ছে। এবং এও স্মর্তব্য যে, বিনোদনের সঙ্গে সৃষ্টিশীলতার বস্তুত মৌলিক কোনও সংঘাত নেই। চার্লি’র সিনেমা তার চরম দৃষ্টান্ত।
এই কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও শাসনের মধ্যে থেকে তেমন সিনেমা নির্মাণের সুযোগ ও স্বাধীনতা নিশ্চয়ই অবাধ নয়। সে সুযোগ, বলা অহেতুক, সীমিত এবং শর্তসাপেক্ষ। অবশ্য কোনো ব্যবস্থাই বোধহয় শিল্পসৃষ্টির সম্পূর্ণ বিরোধী হয় না, হতে পারে না। তবে এও মিথ্যে নয় যে, সাহিত্যিক-সঙ্গীতকার-চিত্রশিল্পী-নাট্যকার সৃষ্টি কর্মে যে পরিমাণ স্বাধীনতা উপভোগ করার সুযোগ পান একজন চিত্রনির্মাতা-চিত্রপরিচালকের স্বাধীনতা সে তুলনায় অনেকাংশে খণ্ডিত। মাধ্যম হিসাবে সিনেমার প্রভাব ও প্রতিপত্তি অন্য যে কোন মাধ্যমের চেয়ে বেশি ও বিস্তৃত বলে সরকারি-বেসরকারি সব তরফেই সিনেমাকে নিয়ন্ত্রণের আকাঙ্ক্ষা ও প্রয়াস অত্যধিক, এবং অব্যাহত। সেন্সর বোর্ড মার্কা খবরদারি কিন্তু সিনেমার ক্ষেত্রেই বর্তমান, শিল্পচর্চার অন্য ক্ষেত্রে নয়। সিনেমার শক্তিই তার দুর্বলতারও (বন্দীদশার) কারণ। একজন পরিচালককে এই বাস্তবতা মাথায় রেখেই এগোতে হয়। আর ঠিক এখান থেকেই, সৃষ্টিশীল চলচ্চিত্র-নির্মাণ ও চলচ্চিত্র-চর্চার সীমা সম্প্রসারণের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়েই শুরু হতে পারে বিকল্প সিনেমা ভাবনা, যেভাবে একদিন শুরু হয়েছিল ‘ফিল্ম সোসাইটি আন্দোলন’।
ডিজিট্যাল প্রযুক্তির কল্যাণে আজকাল সিনেমা তৈরি করা থেকে প্রদর্শনের গোটা প্রক্রিয়ায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটে গেছে। নির্ধারিত স্থান নির্ধারিত সময় নির্ধারিত পদ্ধতি –এই ধারণাটাই মুখ থুবড়ে পড়েছে। দান-অনুদান-ঋণ ইত্যাদির ওপর আর্থিক ব্যাপারটা ছেড়ে দিয়ে পঞ্চাশ-ষাটের দশকেও যারা দুঃসাহসিক পরিকল্পনার রূপ দিতে পেরেছিলেন তাদেরও প্রদর্শনের ব্যাপারে পরনির্ভরতা ছিল অনিবার্য। এন এফ ডি সি’র মত সংস্থাও ফিল্ম প্রদর্শনের প্রসঙ্গটি এক হিসেবে উপেক্ষাই করেছে বলা যায়। ডিজিট্যাল প্রযুক্তি ও ইন্টারনেট সেদিক থেকে এক নয়া সুযোগ এনে দিয়েছে বলা যায়। কম খরচে ছবি তুলে ঘরে বসে সম্পাদনা করে প্রদর্শনের ক্ষমতা প্রায় হাতের মুঠোয় এসে গেছে। স্বল্পদৈর্ঘের সিনেমা নির্মাণে উৎসাহী হলেন অনেকেই, এবং একটা নয়া আন্দোলনও রূপ নিল বলা যায়। কিন্তু সেও সীমাবদ্ধ রইল একশ্রেণীর দর্শক এবং ফিল্ম সোসাইটি/ক্লাব ইত্যাদির মধ্যেই। মূলধারার সিনেমাও কিন্তু ডিজিট্যাল প্রযুক্তিকে গ্রহণ করে, আরো সঠিক অর্থে দখল করে, অন্য চেহারায় হাজির করল সিনেমাকে। নগরে, সিটিতে গড়ে উঠতে লাগল মল- মাল্টিপ্লেক্স, সেখানে উন্নত প্রযুক্তিতে সিনেমা প্রদর্শনের আধুনিক ব্যবস্থা করা হল যদিও আম-দর্শক পকেটের জোরে সেথায় প্রবেশের পথ খুঁজে পেল না,পাচ্ছে না। প্রবেশের পথ পুরো দমে রুদ্ধ হয়ে গেল বললেও অত্যুক্তি হবে না।
শিল্প বিপ্লবের (industrial revolution) ফলে যে নয়া শ্রমিকশ্রেণীর আবির্ভাব ঘটেছিল সেই শ্রেণীটির বিনোদনের প্রয়োজনে এক নতুন মাধ্যম ও ব্যবস্থা জরুরি হয়ে দেখা দিয়েছিল। আর প্রযুক্তির হাত ধরে সে চাহিদা পূরণ করতে হাজির হয় মুভি, সিনেমা। কিন্তু হালের ডিজিট্যাল প্রযুক্তি ও ইন্টারনেটের রমরমার যুগে মল-মাল্টিপ্লেক্সের বাড়বাড়ন্তের সময়ে মূলধারার মানে মেনস্ট্রিম সিনেমার দর্শক কিন্তু বদলে গেছে, বদলে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, আমরা যখন খুব কম বাজেটে সিনেমা নির্মাণের সুযোগের কথা বলছি ঠিক তখনই আলোচ্য হয়ে উঠছে কোটি কোটি অর্থ-ব্যয়ে ‘বিগ বাজেটের ছবি’। অর্থাৎ, একটা বিভাজন প্রায় সম্পূর্ণ হয়েছে বলা যায়। এমন কি নাগালের মধ্যে পাওয়া প্রযুক্তির কৃপায় আমরা যাকে ‘আমাদের এলাকা’ ভেবে তৃপ্তির শ্বাস নিতে অভ্যস্ত সেখানেও (বাণিজ্যের সম্ভাবনা থাকলে) কর্পোরেট প্রভুরা থাবা বসাচ্ছে। মেনস্ট্রিমের তাবড় তাবড় নামীদামী পরিচালকরাও এখন শর্ট ফিল্ম তৈরি করে ইউ টিউবে ছড়াচ্ছেন। যেহেতু মুঠোফোনেও আজকাল সিনেমা দেখা যায়, সফর করতে করতেও। সেই বাজারটাই বা ছাড়বে কেন! অনেকটা খুচরো (retail) ব্যবসায় সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগের (FDI) মত ব্যাপার ঘটে চলেছে, ঘটছে। কোনও ক্ষেত্রই, মানে সূচ্যগ্র মেদিনীও এরা বিনা যুদ্ধে ছেড়ে দিচ্ছে না, ছেড়ে দেবে না। এই বিষয়টা বুঝতে হবে আমাদের, অন্যথায় বিকল্পের ভাবনা অর্থহীন।
এই জায়গা থেকেই বিকল্প নিয়ে ভাবতে হবে। বিকল্প মানে তো প্রযুক্তির বিকল্প নয় শুধু, বিষয়গত বিকল্প ভাবনাও বটে। এর আগে আমরা বিকল্প হিসেবে যে ধারা গুলোর উল্লেখ করেছি তার প্রতিটিই কিন্তু তত্ত্বগত ভাবে এসেছে মূলধারার সাপেক্ষে, পাল্টা হিসেবে নয়। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষিতে বিকল্প হতে হলে চাই এক প্রতিস্পর্ধী পাল্টা ব্যবস্থা। নির্মাণ-বিতরণ-প্রদর্শন-এর এক বিকল্প ব্যবস্থা। সিনেমায় বৈশ্বিক (global) ও আঞ্চলিক (local) – এ দুয়ের পরস্পর স্থান বদল সহজ এবং স্বাভাবিক ব্যাপার। ‘আমাদের সিনেমা’ আর ‘ওদের সিনেমা’ বৈচিত্রে-বৈশিষ্টে আলাদা হওয়া চাই। আর এই পৃথকীকরণের প্রাথমিক শর্ত হচ্ছে এক ভিন্ন দৃষ্টিকোণ- সিনেমার ভাষায় point-of-view –অর্থাৎ গণদৃষ্টিকোণ চাই। এমন কিছু বিষয় আছে মেনস্ট্রিম যেগুলো নিয়ে কাজ করে না, করবে না কখনোই, কিংবা করলেও বিকৃত ভাবে উপস্থাপন করবে। আমাদের এমন সব বিষয় নির্বাচন করতে হবে যা অভিনব অথচ প্রাসঙ্গিক, এমন ভাবে হাজির করতে হবে যাতে শিল্পসম্মত ও গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠতে পারে সাবলীল ভাবে। বৈশিষ্টে আঞ্চলিক হয়েও যার আবেদন হবে বৈশ্বিক। এক কথায় নয়া ন্যারেটিভ চাই। মাল্টিপ্লেক্সের চৌহদ্দির বাইরে যে উন্মুক্ত দর্শককুল তাদের জন্য সিনেমাকে উন্মুক্ত করে দিতে হবে। দর্শককে সঙ্গে নিয়ে হাঁটতে হবে। নির্মাণের কলাকৌশলগত প্রযুক্তি এখন নাগালের মধ্যে, প্রয়োজন কেবল উদ্ভাবনী শক্তির। এক যৌথ প্রয়াসের। যৌথতার কোনও বিকল্প নেই।
মনে রাখা দরকার যে ‘সিনেমা দেখা’ ব্যাপারটাই এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা হয়ে উঠছে ক্রমশ। সিনেমা দেখার ক্ষেত্রে ‘নির্ধারিত স্থান নির্ধারিত সময় নির্ধারিত পদ্ধতি’ সংক্রান্ত ধারণাটি আজ অবান্তর হয়ে পড়েছে। ভিউইং (viewing) ব্যাপারটা এখন আর আগের মত ritual act নয়, বরং বহুলাংশে interactive হয়ে উঠছে। তাছাড়া সিনেমা নির্মাণ থেকে প্রদর্শন অবধি যে hierarchy বর্তমান ছিল, সেও আর বজায় থাকছে না আজকের এই ইলেক্ট্রনিক এজ-এ। সিনেমা একদিন ট্র্যাডিশনাল আর্ট ফর্মগুলোর, যেমন চিত্রকলা এবং থিয়েটারের, পরিবর্ত হিসাবে জনসাধারণের হাতে নীতি ও মতাদর্শ প্রচারের এক নতুন ভাষারীতি তুলে দিয়েছিল। ঊনবিংশ শতাব্দিতে প্রযুক্তির ক্ষেত্রে এক বিরাট লাফের ফলেই চলচ্চিত্রের সে সম্ভাবনা বাস্তবায়িত হতে পেরেছিল এবং তার দরুণ শিল্পকর্ম বিষয়ে জনসাধারণের প্রতিক্রিয়ায় এক আমূল পরিবর্তন এসেছিল। আধুনিক সেই প্রযুক্তির কাছে মানুষ নিজেকে কীভাবে হাজির করবে তার মধ্যে নয়, বরং ফিল্মের বৈশিষ্ট নিহিত ছিল এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে কীভাবে বাস্তবের প্রতিফলন ঘটানো যায় সে প্রশ্নের মধ্যে। আজকে, ডিজিট্যাল টেকনোলজির মত আরেক প্রযুক্তিগত উল্লম্ফনের ফলে সিনেমার এযাবৎ পরিচিত ও স্বীকৃত সংযোগসাধন রীতির কোন পরিবর্তন ঘটার সম্ভাবনা কতটা বা আদৌ আছে কি না, কিংবা এর ফলে সিনেমার আবির্ভাবে যেমন ঘটেছিল সেরকম বৈপ্লবিক কোন পরিবর্তন গণসংযোগের ক্ষেত্রে ঘটবে কি না সেটাই বিচার্য। আমাদের সিনেমা সেটা পারবে কিনা তা নির্ভর করবে বাস্তবের প্রতিফলন কীভাবে কতটা ঘটাতে পারছে তার ওপর। বিকল্প প্রস্তাবে আমরা কতটা কী পরিমাণে বিশ্বস্ত ও গণমুখী হতে পারছি তার ওপর।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন